দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের ফাইনালে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেও গোলের দেখা পেল না স্পেন কিংবা আর্জেন্টিনা। তবে গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে উত্তেজনার কোনো কমতি ছিল না। একের পর এক আক্রমণে আর্জেন্টিনাকে চেপে ধরে স্পেন, আর এমিলিয়ানো মার্টিনেজের দুর্দান্ত গোলকিপিংই বারবার বাঁচায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। শেষ মুহূর্তে এনজো ফার্নান্দেজ লাল কার্ড দেখায় ১০ জনের দলে পরিণত হয়েছে আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত ৯০ মিনিট এবং ইনজুরি সময়ে মিলিয়ে প্রায় ১০০ মিনিটের খেলা হলো। কিন্তু কোনো দলই গোল বের করতে পারলো না। যার ফলে খেলা গড়ারো অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।
বিরতির পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে তুলে নেয় স্পেন। ৪৬ মিনিটেই লিয়ান্দ্রো পারেদেসের ভুল পাস থেকে সুযোগ পেয়েছিলেন আলেক্স বায়েনা। তবে তার শট সামলে নেন মার্টিনেজ।
৫২ মিনিটে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়ায়। বদলি হিসেবে নামা পারেদেস রদ্রিকে পিছন থেকে ধাক্কা দিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন। সেই ঘটনাকে ঘিরে দুই দলের খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুক্ষণ উত্তপ্ত পরিস্থিতিও তৈরি হয়।
স্পেনের আক্রমণের ধার এরপর আরও বাড়তে থাকে। ৫৫ মিনিটে নিকোলাস ওতামেন্দির সময়োপযোগী ট্যাকল, ৫৬ মিনিটে গঞ্জালো মন্টিয়েলের গোললাইন রক্ষা এবং ৬৪ মিনিটে দানি ওলমোর শট মার্টিনেজের হাত ফসকে গেলেও গোল না হওয়ায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে আর্জেন্টিনা।
৬২ মিনিটে স্পেন কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে একসঙ্গে দুই পরিবর্তন আনেন। মিকেল ওইয়ারসাবালের জায়গায় ফেরান তোরেস এবং ফাবিয়ান রুইজের বদলে নামান পেদ্রি। পরে ৭৫ মিনিটে আলেক্স বায়েনার পরিবর্তে নিকো উইলিয়ামস এবং দানি ওলমোর বদলে মিকেল মেরিনোকে নামিয়ে আক্রমণে নতুন গতি আনার চেষ্টা করেন তিনি।
অন্যদিকে লিওনেল স্কালোনি বিরতির পর থেকেই একের পর এক পরিবর্তন করতে বাধ্য হন। প্রথমে পারেদেসকে নামানোর পর চোটের কারণে মাঠ ছাড়েন গঞ্জালো মন্টিয়েল ও ক্রিস্তিয়ান রোমেরো। এছাড়া রদ্রিগো ডি পলের জায়গায় জুলিয়ানো সিমেওনেকেও মাঠে নামান আর্জেন্টিনা কোচ।
ম্যাচের ৬৫ মিনিটের পর থেকে স্পেনের চাপ আরও বেড়ে যায়। লামিনে ইয়ামালের একের পর এক ড্রিবল, পেদ্রি, ফেরান তোরেস, আয়মেরিক লাপোর্ত এবং পাও কুবার্সির শট—সবই ঠেকিয়ে দেন এমিলিয়ানো মার্টিনেজ। বিশেষ করে ৬৭ মিনিটে ইয়ামালের নিখুঁত ক্রস থেকে ফেরান তোরেসের হেড এবং ৮০ মিনিটে লাপোর্তের হেড দারুণভাবে রুখে দেন আর্জেন্টাইন গোলরক্ষক।
পরিসংখ্যানও স্পেনের একচ্ছত্র আধিপত্যের সাক্ষ্য দেয়। ৭০ মিনিট পর্যন্ত আর্জেন্টিনা একটি শটও নিতে পারেনি। ১৯৬৬ সালের পর বিশ্বকাপ ফাইনালের ইতিহাসে কোনো দল এত দীর্ঘ সময় শটবিহীন থাকেনি। একই সময়ে লিওনেল মেসির বল স্পর্শ ছিল মাত্র ২২টি, যা স্প্যানিশদের কঠোর মার্কিংয়ের প্রমাণ।
অন্যদিকে ইয়ামাল নিজের প্রতিভার ঝলক দেখিয়ে যান পুরো ম্যাচজুড়ে। তিনি পাঁচটির বেশি সফল ড্রিবল সম্পন্ন করেন, যা ২০১৪ সালের ফাইনালে মেসির সাতটি সফল ড্রিবলের পর প্রথম কোনো ফুটবলারের এমন কীর্তি।
শেষ ১০ মিনিটে ম্যাচ আরও নাটকীয় হয়ে ওঠে। ৮২ মিনিটে প্রতিবাদ জানিয়ে হলুদ কার্ড দেখেন এনসো ফার্নান্দেজ। এরপর যোগ করা সময়ের তৃতীয় মিনিটে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। মাঝমাঠে ঢিলে বলের দখল নিতে গিয়ে পাও কুবার্সির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল করেন এনসো। সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে তাকে মাঠ থেকে বের করে দেন রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ।
১০ জনের আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই সময়ই জয়ের সুবর্ণ সুযোগ পায় স্পেন। নিকো উইলিয়ামস একক প্রচেষ্টায় বক্সে ঢুকে জোরালো শট নিলেও আবারও বাধা হয়ে দাঁড়ান এমিলিয়ানো মার্টিনেজ।
অতিরিক্ত চার মিনিট যোগ হলেও আর গোলের দেখা মেলেনি। ফলে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় নির্ধারিত ৯০ মিনিট। তবে শেষ মুহূর্তে এনসো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড অতিরিক্ত সময়ে স্পেনকে সংখ্যাগত সুবিধা এনে দেয়, আর ১০ জনের আর্জেন্টিনাকে তখন লড়তে হয় বিশ্বকাপ শিরোপা বাঁচানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ নিয়ে।
কে